এই দিন মা সন্তোষী দেবীর পূজা করা হয়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

উজ্জ্বল রায় নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইলঃ-     

সন্তোষী মায়ের ত্রিনয়ন। ত্রিনয়ন হল চন্দ্র, সূর্য, অগ্নির প্রতীক। দেবী হলেন জ্ঞানদায়িনী। তিনি অবিদ্যা, ভ্রমতা দূর করেন, তথা ভক্তকে চতুর্বিধ ফল ও মহামুক্তি প্রদান করেন। আমরা জানি ত্রিকালের কথা।

অতীত কাল, বর্তমান কাল, ভবিষ্যৎ কাল। মা ত্রিনয়নী। উজ্জ্বল রায় নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইল জানান, তিনি অতীত কাল জানেন, বর্তমান কালে কি হচ্ছে- তাও তিনি জানেন, আগামীতে কি হবে- তাও তিনি জানেন। তাই মা ত্রিনয়নী।

মা সন্তোষী রত্ন সিংহাসনে বিরাজিতা। কারন তিনি সকল প্রকার ঐশ্বর্যের অধীশ্বরী । তিনি নানান রত্ন অলঙ্কার ধারন করে আছেন। তিনি ঐশ্বর্যময়ী । রত্ন অলঙ্কার কে আমরা লক্ষ্মীর স্বরূপ শুভ বলে মানি।

মায়ের আশিষে সকল প্রকার অশুভ জড়তা খন্ডিত হয়ে শুভ শক্তির স্থাপনা ও বিরাজমানা হয়, তাই মায়ের শরীরে অলঙ্কার । মা সন্তোষীর চার বাহু। চারদিকে সর্বত্রই মায়ের নিয়ন্ত্রন । মায়ের হাতে তরবারি থাকে। তরবারি তীক্ষ্ণ ধার । তীক্ষ্ণ বা ক্ষিপ্র গতিবেগ বা বুদ্ধির পরিচয় । মায়ের অপর হাতে থাকে ত্রিশূল। ত্রিশূল ত্রিগুনের সমাহার ।

ত্রিশূলের তিনটি ফলা যথাক্রমে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের প্রতীক । সত্ত্ব, রজ, তম এই ত্রিগুনের সমাহার হল ত্রিশূল। এই ত্রিশূল থাকে মায়ের হাতে। তিনি সত্ত্ব, রজ, তম ত্রিগুনের সমাহারেই বিশ্ব চালিত করছেন। ত্রিশূল হল শিবকোষ বা অনন্ত জ্ঞানের ভাণ্ডারের চাবি। এই ব্রহ্মজ্ঞানের চাবিটি মা নিজের হস্তে ধারন করেন।

অর্থাৎ মা যেমন সকাম উপাসক দের চতুর্বিধ ফল দান করেন, আবার যোগীদের ব্রহ্মজ্ঞান প্রদান করেন । আবার ত্রিশূল অশুভ শক্তির নাশ করে। মা দুর্গার পদতলে আমরা ত্রিশূল বিদ্ধ মহিষাসুরকে দেখতে পাই । ভগবান শিব এই ত্রিশূলেই ত্রিপুর অসুরকে বধ করেছেন। ত্রিশূল আসুরিক শক্তির বিনাশ ঘটায়। দৈবশক্তির সূচনা করে ।

তাই ত্রিশূলকে পবিত্র মনে করে পূজা করা হয় । তাই মা শুভশক্তির প্রতীক , আসুরিক শক্তি ভাব বিনষ্টের প্রতীক ত্রিশূল ধারন করেন। মা নিজেই আসুরিক ভাব নষ্ট করে দৈবভাব স্থাপনা করেন । মা সন্তোষী নামের অপর একটি ব্রতকথা শোনা যায় ।

সেটি হল বিজু ও মালিনীর উপাখ্যান। মালিনীর ঘটনা ঐ একরকম। বিজু কোন কারনে কাজ করতে শহরে চলে যায় । সেখানে গিয়ে এক নারীর প্রেমে পড়ে বাড়ীর কথা স্ত্রীর কথা ভুলে যায় ।

অপরদিকে শ্বশুর বাড়ীতে মালিনীর ওপর অত্যাচার বৃদ্ধি হলে, মালিনী ভাবে সে আত্মহত্যা করে মুক্তি পাবে। এই ভেবে মালিনী পাহাড়ের ওপর থেকে খাদে ঝাঁপ দিতে উদ্যত হয়।

ঠিক সেই সময় দেবর্ষি নারদ মুনি প্রকট হয়ে বললেন- ‘আত্মহত্যা মহাপাপ। তুমি গৃহে ফিরে ষোলো শুক্রবার সন্তোষী মায়ের ব্রত করো।’ নারদ মুনি মালিনীকে ব্রতের সমস্ত নিয়ম শিখিয়ে দেয় ।

গৃহে ফিরে মালিনী সন্তোষী মায়ের ১৬ শুক্রবার ব্রত পালন করতে থাকে। অল্প কালের মধ্যেই মা সন্তোষী ভক্তের প্রতি সন্তুষ্ট হন। বিজুর পূর্ব স্মৃতি ফিরে আসে। সে অনেক জিনিস পত্র নিয়ে বাড়ী ফিরে আসে।

এরপর মালিনীকে নিয়ে সুখে থাকতে লাগে । মা সন্তোষীর বাহন বৃষ। কেন? গো জাতি সত্ত্ব গুনী সাত্ত্বিক গুনের আধার। বৃষর মধ্যে আমরা দুটি গুন দেখতে পাই। বৃষ যখন শান্ত তখন সে চলনে মন্থর , সদা তৃপ্ত, প্রসন্ন ।

কিন্তু ক্রোধ হলে সে ঠিক উল্টো । শিং, খুঁড় দিয়ে আঘাত এমনকি হত্যা করতে পারে। কিন্তু বৃষকে আমরা সব সময় শান্তভাবে মা সন্তোষীর পদতলে দেখতে পাই। মানুষের মধ্যেও ক্রোধ ও শান্ত- দুই ভাব বিরাজ করে।

ক্রোধে মানুষ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়, আবার শান্ত ভাবে প্রসন্ন , হাস্যমুখর । কিন্তু যখন ভগবানের কাছে যেতে হবে, তখন প্রসন্ন চিত্তে , শান্ত অবস্থায় যেতে হবে। ক্রোধ নিয়ে ভগবানের কাছে গেলে কিছুই প্রাপ্তি হবে না । বৃষ আমাদের সেই শিক্ষাই দেয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *