নিউজিল্যান্ডের ওটাগো রাজ্যবাসীকে করোনা যুদ্ধে প্রস্তুত করলেন একজন বাংলাদেশী ড.শ্যামল দাস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুদেব দাস,গাজীপুর প্রতিনিধি:-

করোনা ভাইরাসে ইউরোপ আমরিকা থেকে যখন একের পর এক বাংলাদেশী করোনা ভাইরাস আক্রান্তের খবর আসছে। তখন নিউজিল্যান্ডের ওটাগো রাজ্যবাসীকে করোনা যুন্ধের জন্য প্রস্তুত করছে একজন বাংলাদেশী ড.শ্যামল দাস।

শ্যামল দাস নিউজিল্যান্ডের ডানেডান শহরের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগে শিক্ষকতা করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ফার্মেসি বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন।

নিউজিল্যান্ডে যখন করোনার পাদুর্ভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার চাহিদার তুলনায় যোগান কম তখনই মাথায় আসে নিজেইতো তৈরি করতে পারেন হ্যান্ড স্যনেটাইজার।তখনই কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের সাথে। শেষ করেন সকল আইনি ও প্রশাসনি কাজ । তখন ড.শ্যামল দাস তার কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে কাজটি শুরু করেন।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই তার নেতৃত্বের দলটি ইথানল দিয়ে ৬০০ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বাজারের বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে শুরু করে।ড.শ্যামল দাস জানান, জরুরী ভিত্তিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাজটি শুরু করার পর এপ্রিল জুড়ে মোট ৮০০ লিটারের তৈরি করতে পেরেছেন তারা।

 ড.শ্যামল দাস বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের জন্য প্রথমে ২০ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করি। তারপর আবিষ্কার করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের জন্যই এটি তৈরি করতে হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়ার পর যেটি উদ্বৃত্ত ছিল তা পুলিশ বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসকে সরবরাহ করেছি।

তিনি বলেন সর্বদাই দেশর জন্য কিছু করতে পারাটা গর্বের, আর বিদেশের মাটিতে কিছু করলে  দেশের পতাকা উজ্জ্বল হয়।নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ড.শ্যামল দাস। গত বছর ওটাগোতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল পৌঁছালে তাদের সংবর্ধনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই প্রবাসী বাংলাদেশি।

উল্লেখ্য গত ২০১৬ সালে ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ড.শ্যামল দাস Excellence in Teaching Award ও Emerging Researcher Award 2016 ভূষিত হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশে ড.শ্যামল দাস এর বাবা সাবেক প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র দাস ও তার মা পুষ্প রানী দাস এর সাখে কথা বললে তারা বলেন.আমরা এ বিষয়ে শুনেছি এটা সত্যিই আনন্দের।

আমাদের ছেলের এই উদ্ভাবনে পিতা মাতা হিসেবে আমরা গর্বিত।এটা শুধু আমাদের গর্ব না এটা সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব।নিউজিল্যান্ডে করোনাভাইরাস রোগী প্রথম শনাক্ত হয় এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। তারপর শুরু হয় দেশটিতে লকডাউন। সম্প্রতি কড়া লকডাউনে থাকায় সংক্রমণ এক সংখ্যায় নেমে আসায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ’ডুর্ন।

দেশটিতে পয়লা মে পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১৪৭৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৯ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *