কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পর্যটক শূন্য

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:-

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা লাউয়াছড়ায় জাতীয় উদ্যান করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আজ পর্যটক শুন্য।

নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে প্রতিদিন আসত দেশ বিদেশের অসংখ্য প্রকৃতি প্রেমী।সাম্প্রতিক সময়ে নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আজ পর্যটক শুন্য হয়ে পড়েছে।প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে এখানে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের ঢলপড়ত।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারনে সরকারি নির্দেশনা থাকায় পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে এবার ঈদে পর্যটক শূন্য হয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।পর্যটকরা ঈদের ছুটিতে ভিড় জমাতেন কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে।

এছাড়াও কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগান লেক, হামহাম জলপ্রপাতসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে মুখরিত হত পর্যটকদের আগমনে। তবে এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা থাকায় পবিত্র ঈদুল ফিতরে পর্যটকশূন্য রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ কমলগঞ্জের আশপাশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

সোমবার ঈদের দিন দুপুরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, টিকেট কাউন্টারসহ প্রবেশ ফটকে ঝুলছে তালা। ভিতরে ঘুরে দেখা যায় পর্যটকশূন্য উদ্যানটি যেন হাহাকার করছে। তবে বিভিন্ন প্রজাতির বানর লজ্জাবতী বানর, চশমাপরা বানরদের আপন মনে গাছে গাছে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

এছাড়া নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত পুরো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।আছে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর অবাদ বিচরন শুধু নেই কোন পর্যটক।লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ইকো ট্যুর গাইড শেখর দে বলেন, ঈদের ২ মাস আগ থেকেই বিভিন্ন পর্যটকরা ফোন দিতেন।অনেকে বিকাশে গাইড ফি হিসেবে অগ্রীম বুকিংও দিয়ে রাখতেন।

এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় এখন পর্যন্ত কেহ যোগাযোগ করেনি।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ২ মাস ধরে এ উদ্যানে পর্যটকদের প্রবেশাধীকার বন্ধ রয়েছে।তবে সোমবার (ঈদের দিন) বেলা ২টায় মাধবপুর চা বাগান লেকে গিয়ে দেখা যায় সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নারী-পুরুষ ও শিশুর সমন্বয়ে প্রচুর স্হানীয় পর্যটক প্রবেশ করছেন মাধবপুর চা বাগান লেকে। আবার লেকের ভিতরে দল বেধে ঘুরে ফিরে যাচ্ছেন। মাধবপুর লেকে প্রবেশের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে চা কারখানার সামনের গেইটে পর্যটকদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোটরযান আটকিয়ে দিলেও পর্যটকদের পায়ে হেঁটে লেকে প্রবশে করতে দেখা যায়।

মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, এ সময়ে লেকে পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও তারা কোন নিষেধাজ্ঞা মানছেন না। তারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লেকে প্রবেশ করছেন বলে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন খবর পেয়ে মাধবপুর লেকে পুলিশের একটি দল পাঠিয়েছেন। 

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, এ সময়ে পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আর দলবেধে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে ঘুরে বেড়ানোর কোন সুযোগ নেই। তিনি মাধবপুর চা বাগান লেকে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছেন বলেও জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *