নড়াইলে বিভিন্ন মসজিদে করোনা ভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

উজ্জ্বল রায় (নড়াইল জেলা) প্রতিনিধি:-

    
করোনা ভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে নড়াইলে বিভিন্ন মসজিদে ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ৮টায় নড়াইল কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় মসজিদে ইমামতি করেন মাওলানা মোঃ অকিউজ্জামান।

উজ্জ্বল রায় (নড়াইল জেলা) প্রতিনিধি জানান,  এরপর পর্যায়ক্রমে পুরাতন বাসাটার্মিনাল মসজিদ, রুপগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ, ভওয়াখালী উত্তরপাড়া জামে মসজিদ, পুলিশ লাইন মসজিদ, মাছিমদিয়া মসজিদসহ জেলার ২হাজার ২শত মসজিদে কমিটির নির্ধারিত সময়ে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নামাজ শেষে মসজিদগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে মহান আল্লাহতায়ালার নিকট বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।     করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদ উদযাপনের স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে বিরত পুরো দেশ।

মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদ উদযাপনে উৎসবের কোনো আমেজ নেই। পুরো এক মাস রমজানের রোজা পালন করার সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানরা অপেক্ষা করে এই দিনের জন্য।

উদযাপনের জন্য সকল প্রস্তুতির মধ্যে থাকে অন্য রকম আমেজ আর আনন্দ। করোনাভাইরাসের কারণে এবারের প্রস্তুতিও নেই বললেই চলে। ঈদ উদযাপনের স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকেও বিরত পুরো দেশ।

ঈদগাহ মাঠে বা ফাঁকা মাঠে ঈদের নামাজ আদায়ের সুযোগ নেই। মসজিদে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হবে, নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব মেনে। তবে নামাজ আদায়ের পর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ  ‘কোলাকুলি’ করতেও মানা করেছে ইসলামী ফাউন্ডেশন।

আর ঈদ উপলক্ষে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান, এমনকি ঘরোয়া পার্টি থেকেও বিরত থাকছেন সবাই।

সময়মতো বেতন-বোনাস, এক সপ্তাহের অধিক সময় ছুটি সব মিলিয়ে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদ আনন্দটা একটু বেশিই হয়। ছুটি পেলেই তারা ছুটতেন গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনের কাছে। কিন্তু এবারের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তারা এবার যেতে পারেননি গ্রামে। কর্মস্থলেই ঈদ করতে আদেশ জারি করেছে সরকার। ফলে ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলেই ঈদ করতে হচ্ছে প্রায় সকল  সরকারিচা করিজীবীকে ।

করোনার সংক্রামন থেকে বাঁচতে এবং সড়কে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায়, ছুটি পাওয়ার পরেও ঢাকার বেশিরভাগ বেসরকারি চাকরিজীবীও অবস্থান করছেন রাজধানীতেই। তাদের বেশীরভাগই ঈদ বোনাস পাননি। আবার অনেকে গত এপ্রিল মাসেরও বেতন পাননি।

পুলিশের অনুমতি থাকায় যার যার যার প্রাইভেট গাড়ি আছে, অনেকেই গাড়িতে করে গ্রামে গেছেন ঈদ করতে। আবার অনেক গার্মেন্ট শ্রমিক ও স্বল্প আয়ের মানুষও নানা কৌশলে ফিরেছেন গ্রামে।

সাংবাদিক উজ্জ্বল রায় বলেন, আমরা এখন একটা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আছি। করোনাভাইরাসে সারা বিশ্বের মানুষ আজ দিশেহারা। নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সবাই আজ ঘরবন্দি। এমন সময়ে ঈদের আনন্দ কেমন হবে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।

সাংবাদিক বুলু দাস বলেন, প্রতিদিন আমাদের দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। একটা অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে আমরা আছি বলতে হয়। আমি মন থেকে চাই, যে যেখানে আছি সেখান থেকেই এই ঈদ করতে হবে । বেঁচে থাকলে আগামী ঈদ আমাদের জন্য অনেক সুন্দর হবে।

এবারে ঈদ পুরোটাই ঘরে বসে করতে বলে জানান তিনি,তিনি আরো বলেন, ‘এবারের ঈদ একবা্রেই ফ্যাকাশে। দুই মাস ঘরে অবস্থান করে একবা্রেই মানুষ ক্লান্ত। ঈদের দিনটিও একইভাবে কাটাতে হবে। কারণ ওইদিন করোনাকালীন অন্য দিনের চেয়ে ভিন্ন দিন হচ্ছে না।’

করোনার কারণে ঈদ তো নেই-ই, এখন ঘরে খাবারও নেই। তাহলে বুঝতে পারছেন আমাদের ঈদ কেমন এবার!’ঈদ মানে টেলিভিশনে নতুন নতুন গল্প আর টিভি তারকাদের রাজত্ব।

বর্তমানে বাংলাদেশে অনুমোদিত ৪৫টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মধ্যে ৩০টি পূর্ণ সম্প্রচারে আছে। নিউজ চ্যানেল বাদ দিলে ২২টি চ্যানেল কাজ করে বিনোদন নিয়ে।

সারা বছর নানা আয়োজন থাকলেও শুধু ঈদকে ঘিরে থাকে টানা সাত দিনের আয়োজন। ঈদের লম্বা ছুটিকে বিনোদনে রাঙিয়ে তুলতে প্রায় প্রতিটি চ্যানেল উঠে-পড়ে লাগে। রিয়েলিটি শো, রান্না, নাচ-গান ও নানা আয়োজনে মুখর থাকে টিভি চ্যানেলগুলো।
কিন্তু এবারের ঈদে এসবের কিছুই নেই।

এবারের ঈদটা একেবা্রেই বাজেভাবে কাটাতে হচ্ছে উল্লেখ করে এই প্রবীণ সাংবাদিক উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘আশা করি আগামি কুরবানি ঈদের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আগামি ঈদে করোনামুক্ত একটা পৃথিবীতে আমরা আবার মেতে উঠব নতুন করে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *