নড়াইলের সন্তান ছিলেন ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্ত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:-     

ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্ত ছিলেন নড়াইলের সন্তান ।

১৯১১ সালের ৬ জুন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে তার জন্ম । এই বিখ্যাত লেখকের ১০৯তম জন্মবার্ষিকী আজ । বাবার নাম সত্যরঞ্জন গুপ্ত ও মায়ের নাম লবঙ্গলতা দেবী।

চাকরিজীবী বাবা বিভিন্ন কর্মস্থলে অবস্থানকালে নীহার রঞ্জন গাইবান্ধা হাইস্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্কুলে পড়ালেখা করেন। 

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, ১৯৩০ সালে ভারতের কোন্ননগর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে কারমাইকেল মেডিক্যাল কলেজে থেকে ডাক্তারি পড়েন।

এরপর লন্ডন থেকে চর্মরোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।নীহার রঞ্জন গুপ্ত তার লেখার মধ্য দিয়ে আজো মানুষের মনে স্থান করে আছেন। তার উপন্যাসেরই একটি বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র চরিত্র কিরীটি রায়কে আজো মনে রেখেছেন পাঠক।

তিনি গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনীর লেখক হিসেবে যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনি চিকিৎসক হিসেবেও ছিলেন স্বনামধন্য।ডাক্তারি পাস করে বেশ কিছুদিন নিজস্ব ভাবে প্রাক্টিস করেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হন।

তিনি মেজর পদেও উন্নীত হন। চাকরি সূত্রে চট্টগ্রাম, বার্মা (বর্তমান মায়ানমার), মিশর পর্যন্ত বিভিন্ন রণাঙ্গনে ঘুরে বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেন। ভারত বিভক্তির পর ১৯৪৭ সালে পরিবারসহ স্থায়ী ভাবে কলকাতায় বসবাস করেন।

নীহাররঞ্জন গুপ্তের সাহিত্যে হাতে খড়ি শৈশব থেকেই। একসময় শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদ গ্রহণসহ তার অটোগ্রাফ সংগ্রহ করেন তিনি। লন্ডনে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি গোয়েন্দা গল্প রচনায় আগ্রহী হয়ে উঠেন।

কেবলমাত্র রহস্য উপন্যাস নয়, তার সামাজিক উপন্যাসগুলোও সুখপাঠ্য। যা পাঠক হৃদয় আকৃষ্ট করে এখনো।নীহার রঞ্জন গুপ্তের উপন্যাসের সংখ্যা দুইশ’রও বেশি।

‘মঙ্গলসূত্র’, ‘উর্বশী সন্ধ্যা’, ‘উল্কা’, ‘বহ্নিশিখা’, ‘অজ্ঞাতবাস’, ‘অমৃত পাত্রখানি’, ‘ইস্কাবনের টেক্কা’, ‘অশান্ত ঘূর্ণি’, ‘মধুমতি থেকে ভাগীরতী’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘অহল্যাঘুম’, ‘ঝড়’, ‘সেই মরু প্রান্তে’, ‘অপারেশন’, ‘ধূসর গোধূলী’, ‘উত্তর ফাল্গুনী’, ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’, ‘কলোভ্রমর, ‘ছিন্নপত্র’, ‘কালোহাত’, ‘ঘুম নেই’, ‘পদাবলী কীর্তন’, ‘লালু ভুলু’, ‘কলঙ্ককথা’, ‘হাসপাতাল’, ‘কজললতা’, ‘অস্থি ভাগীরথী তীরে’, ‘কন্যাকুমারী’, ‘সূর্য তপস্যা’, ‘মায়ামৃগ’, ‘ময়ূর মহল’, ‘বাদশা’, ‘রত্রি নিশীথে’, ‘কনকপ্রদীপ’, ‘মেঘকালো’, ‘কাগজের ফুল’, ‘নিরালাপ্রহর’, ‘রাতের গাড়ী’, ‘কন্যাকেশবতী’, ‘নীলতারা’, ‘নূপুর’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘মধুমিতা’, ‘মুখোশ’, ‘রাতের রজনী গন্ধা’- এসব তারই রচিত উপন্যাস।

তার অনেক উপন্যাস বাংলা ও হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়েছে।তিনি শিশুদের উপযোগী সাহিত্য পত্রিকা ‘সবুজ সাহিত্য’ এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯৮৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে নীহার রঞ্জন গুপ্তের আপনজন কেউ নেই। পৈত্রিক বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নদশায় থাকার পর ২০১৭ সালে সংস্কার করা হয়েছে। তার পৈত্রিক ভিটায় রয়েছে দ্বিতল বাড়ি, পুকুরসহ গাছপালা।

নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া কিলাবের  সভাপতি সাংবাদিক উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘বরেণ্য ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্তের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য তার জন্মভূমিতে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

আমরা ভুলতে বসেছি নীহার রঞ্জনকে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই তাকে জানেন না।’ এলাকার কিছু সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ প্রতি বছর জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে থাকেন। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে বেসরকারি পর্যায়েও সেসব আয়োজন নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *