ভক্তদের সঙ্গে ভগবানের গভীর সম্পর্ক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

উজ্জ্বল রায়:-

     
আমরা সকলেই জানি ভক্তদের সঙ্গে ভগবানের এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।

এর উদাহরণ আমরা পুরাণ কাহিনী সূত্রে জেনেছি যেমন রাধা ও কৃষ্ণ লীলা। আজকে জানবো কি ভাবে ভগবানকে ভক্তি ভরে ডাকলে ভগবানের সাক্ষাত পাওয়া যায়।

ভক্ত সুরদাস জন্ম থেকেই অন্ধ। তার দেখা শোনার জন্য কোনো লোক থাকত না। লাঠি হাতে কৃষ্ণ নাম জপ করতে করতে ভ্রমণ করে বেড়ায়। সংসারে একা দরিদ্র ভিক্ষুক।

কোনো দিন খাবার জোটে আবার কোনো কোনো দিন জোটে না। কিন্তু তার দারিদ্রতা তার মনের আনন্দকে হরণ করতে পারে নি। কিন্তু তার মনের আত্মা পড়ে থাকে কৃষ্ণ নামে। মুখে দারিদ্র ভাব থাকলেও মনে আছে গম্ভীর আনন্দ এর সুখ। সে ঠিক করে যে করে হোক কৃষ্ণ দেখা পেতেই হবে।

সে মনে করে কৃষ্ণ দেখা না পেলে তার জীবন বৃথা।
তাই সে রওনা হয় মথুরা পথে। অন্ধ হওয়া সত্বেও সে কেবল মাত্র লাঠি কে অবলম্বন করে মথুরা পথে গমন করে আর মুখে কৃষ্ণ নাম। রাস্তা তে কোনো বাঁধা বিপত্তি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। সে কৃষ্ণ নাম জপ করতে করতে গভীর অরন্যে প্রবেশ করে। আর রাস্তায় কোনও লোকের দেখা পেলে জিজ্ঞেস করে ভাই মথুরা কতো দূর।

কেউ কেউ তার প্রশ্নের উত্তর দেয় আবার কেউ কেউ দেয় না। বন্য পশুর পদধ্বনি শুনলেও জিজ্ঞাস করে মথুরা কত দূর। পথে মাঝে মাঝে কেউ জল দেয়, রুটি দেয়, পথে কেউ কেউ বলে মথুরা তো অনেক দূর তাতেও সে বলে প্রভুর দেখা পেতেই হবে।

কঠিন পথ পার হতে গিয়ে অনেক বাধা বিপত্তি পার হতে গিয়ে অনেক আঘাত পেয়েছে কিন্তু তাতেও মুখে কৃষ্ণ নাম নিয়ে এগিয়ে চলে।
তার মনে আনন্দের জোয়ার মথুরাতে প্রভু কে দর্শন করবে। সব দুঃখ কষ্ট মুছে যায়। গভীর আনন্দ তাকে এত টাই দুর্বল হয়ে যায় যে চলতে চলতে মানুষহীন এক অরন্যে এসে পৌঁছায়। আর লক্ষহীন ভাবে এক কুঁয়োতে পড়ে যায়।

কিন্তু সে আনন্দে গান গেয়ে যায় আর মুখে কৃষ্ণ নাম। কিন্তু কয়েক দিন পর ক্ষুধায় তার জীবন অনাড়ম্বর হয়ে গেছে। হঠাৎ একদিন সে এক বালক কে দেখতে পেলো, এক ঘটি দুধ নিয়ে বনের মধ্যে যাচ্ছিলো। গো গো শব্দ শুনে আসে। আর একটি লতা দিয়ে তাকে ওপরে তুলে আনে।

আর বলে আমার জীবন দাতা তুমি কে, তারপর বালক টি বলে সুর দাস তুমি তিন দিন কিছু খাওনি এই নাও দুধ টুকু খাও।
তারপর দুধ পান করে বালকটির হাত ধরতেই তার সারা শরীর রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে এবং নয়ন ভোরে জল পড়তে শুরু করে। সুর দাস বললো বন্ধু এবার পরিচয় দাও এবার।

বালকটি বললো আমি গোয়ালার ছেলে। এই পথে মথুরার উদ্দেশে যে সব যাত্রী যায় তাদের তৃষ্ণা দূর করে থাকি। সুর দাস তার গলা জড়িয়ে ধরে বললো আমি তো সেই গোয়ালার ছেলে কেই করে খুঁজছি। যদি তুমি এসে থাকো তো একবার তোমার শ্রী মুখ খানি দেখাও। বালকটি বললো তুমি তো অন্ধ কি করে দেখবে আমাকে। আচ্ছা আমি তোমাকে দৃষ্টি দান করলাম। চোখে হাত বলাতেই সুর দাসের দৃষ্টি ফিরে আসে, আর সে দেখতে পায় সামনে এক শ্যাম রুপি বালক মাথায় এক ময়ূর পালক, গলাতে বনমালা, কোমরে বাঁশি।

সুর দাস মোহিত হয়ে তার পদ চরণে লুটিয়ে পড়ল। বলল দেখা পেয়েছি প্রভু। আমার চোখ আজ ধন্য।

আমার প্রথম দেওয়া দৃষ্টি দিয়ে আমি তোমাকেই দর্শন করলাম প্রভু। আজ আমি ধন্য। আর কার রূপ আমি দেখতে চাই না। এই ভাবে সুর দাস শ্রী কৃষ্ণের দর্শন পেয়ে ছিলেন। অর্থাৎ পবিত্র হৃদয়ে লক্ষ্য স্থির রেখে, যত বাধাই আসুক না কেন তা সত্ত্বেও ভগবানকে ডেকে গেলে নিশ্চয় ভগবান সদয় হবেন, তাঁর দেখা পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *