মৌলভীবাজারে ছিলো প্রাচীন চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:-

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারে তক্ষশীলা ও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাচীন বিদ্যাপীঠ চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে এসেছে এক প্রত্নতাত্ত্বিক গষেণায়।

আর এটির অস্তিত্ব ছিলো আজকের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। এ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।

ঐতিহাসিকদের মতে, চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রবংশীয় রাজা শ্রী চন্দ্র ৯৩০ থেকে ৯৭৫ সালে পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তার প্রশাসনিক রাজধানী ছিলো বিক্রমপুরে( বর্তমান সিরাজগঞ্জ)। প্রাচীন শ্রীহট্ট  (বর্তমান সিলেট)তার শাসনের আওতাভূক্ত ছিলো।

গত শতাব্দীর ষাটের দশকে উদ্ধার হওয়া কপার প্লেটে উল্লেখ রয়েছে উপমহাদেশের প্রাচীন ও বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ নালন্দা ও তক্ষশীলার মতো সিলেটের মৌলভীবাজারে চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা।

অবস্থান হিসেবে বলা আছে উত্তরে কুশিয়ারা নদী, দক্ষিণে মনু নদী ও পূর্বে ইন্দেশ্বরের পাহাড়ি অঞ্চল বা পাথারিয়া অঞ্চল। এ নিয়ে মৌলভীবাজারের সাগরনাল, ভাটেরা, পাঁচগাও এলাকা পরিদর্শন ও প্রাথমিক অনুসন্ধান চালায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।

অনুসন্ধান দলের প্রধান চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান জানান, ‘কুলাউড়ায় সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়টি কোন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত ছিলো তা আমাদের কাছে পরিষ্কার  হচ্ছেনা।

তিনটা জায়গাতে আমরা পর্যাপ্ত কোন ইট পাইনি। কপারপ্লেট পাওয়া গেছে, তাই এটাকে উড়িয়েও দেয়া যায়না। ভাটেরা টিলা ঢিবি’র সাথে এবং রাজনগরের পাঁচগাও ইউনিয়নের পশ্চিমবাগ এলাকায় তাম্রলিপির উদ্ধার স্থানের সাথে চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি যোগসূত্র থাকতে পারে।’

স্থানীয় লেখক-গবেষকরা বলছেন, তাম্রশাসন মিথ্যে হতে পারে না। বর্ণিত সীমানাটি বিস্তৃত হওয়ায় এখানে গভীর অনুন্ধানে নামলেই মিলবে হাজার বছরের ইতিহাস।

কুমিল্লার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ফিল্ড অফিসার শাহীন আলম বলেন, ‘প্রত্নবস্তুর আলামত হিসেবে কিছু ইটপাত্রের ভগ্নাংশ, প্রাচীন মালার পাথরের গুটিকা যা ক্রিস্টাল রঙের কিছু আমরা পেয়েছি।’

লেখক ও গবেষক বিজিত দেব বলেন, মৌলভীবাজারে চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব রয়েছে সেটা যেমন ঐতিহাসিকরা স্বীকার করেছেন, তেমনি গবেষকরাও স্বীকার করতেন।

কারণ সেখানে দুই-দুইটা তাম্রশাসন পাওয়া গেছে। তাম্রশাসন যে ছিলো সেটি বুঝতে হলে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *