কমলগঞ্জ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:-

নির্বাচন কমিশন সুত্রে প্রকাশিত খবরে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে মেয়াদ শেষ হাওয়াতে কিছু  পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্টিত হবে।

এ খবর জানার পর থেকে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ পৌরসভায় সাম্ভাব্য মেয়র,কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন।

করোনাকালীন সময়ে প্রার্থীরা লোকজনের পাশে গিয়ে সাহায্য সহযোগিতার করে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছেন। তবে নির্বাচনী মাঠে অনেক প্রার্থীই তৎপর থাকলেও মূল লড়াই এর এক তৃতীয়াংশই প্রার্থী থাকবে না।

কারন ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে দেশে প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছিল। তাই মূল নির্বাচনের পূর্বেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সাম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের দলের মধ্যে লড়াই করে প্রার্থী হতে হবে।

তফসিল ঘোষণার আগেই পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ইতিমধ্যে পৌর এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পোষ্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

শুধু তাই নয় হাট-বাজারে বিভিন্ন দোকানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা একদিকে যেমন এখন থেকেই গ্রামে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মসজিদে ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।

অন্যদিকে  দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে ঘোরাঘুরি ও দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থীত প্রার্থীরা ভোটের আগেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকেই বেশী প্রধান্য দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মত বিএনপির প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ অনেক কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মামলা-হামলার ভয়ে অনেকেই আত্মগোপনে আছেন। আবার কেউবা বলছেন কৌশলগত কারণে এত আগে তারা প্রচারণায় নামছে না। 

বিগত কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তখন পৌর চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছিলেন ৭ জন। প্রথম বারের মতো তরুন প্রার্থী মোঃ জুয়েল আহমেদ (নৌকা প্রতিক ) নিয়ে ৩৯৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন এবং কমলগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদটি দখলে নেয়।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দি সতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব (তালগাছ) ভোট পেয়েছিলেন ২৮০৪ ও বিএনপি’র প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ(ধানের শীষ) ২১৩৩ ভোট পেয়েছিলেন অপরদিকে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী হাছিন আফরোজ চৌধুরী( জগ)৪২৬ ভোট,রফিকুর আলম ভোট পেয়েছিলেন ৮০ ,নজরুল ইসলাম ভোট পেয়েছিলেন ৮০ এবং মাসুক আহমদ ভোট পেয়েছিলেন ২৩টি।

এবার ২০২০ সালের  নির্বাচনে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার হচ্ছেন  ১৫২০৩ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৭৬০০ এবং মহিলা ৭৬০৩ জন। একাধিক জনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এবার ও কমলগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে এক প্রকার প্রকাশ্যই বিভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তাই নির্বাচনে যদি একক ভাবে দলিয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া না যায় তাহলে যে কেউ ভোটে বিজয়ী হতে পারে। এবারের কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলে  কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ গ্রহণ করতে পারেন।

জানা যাচ্ছে আসন্ন পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ  থেকে ৪ জন  ও বিএনপির ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন। জাতীয় পার্টির তৎপরতা এখনও চোখে পড়েনি।

ইতিমধ্যে প্রার্থীতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন তারা হলেন বর্তমান পৌর মেয়র, সাবেক ছাত্র নেতা কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও  সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ট বিদ্যুৎসাহী  ও সমাজকর্মী মোঃ জুয়েল আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর         আনোয়ার হোসেন , কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের  যুগ্ন আহবায়ক ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরফদার ফখরু. কমলগঞ্জ উপজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের  আহবায়ক ও ঠিকাদার মোঃ হেলাল মিয়া।

অপরদিকে বিএনপি থেকে প্রার্থী হিসাবে মাঠে কাজ করছেন,কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র আবু ইব্রাহিম জমসেদ, মৌলভীবাজার জেলা যুব দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী তৈমুর ও জাকারিয়া হাবীব বিপ্লব প্রমুখ।

তারা ইতিমধ্যেই নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগে ভাগেই ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষনের কার্যক্রমে লেগে পড়েছেন। বর্তমান পৌর মেয়র মোঃ জুয়েল আহমদ বলেন,বিগত নির্বাচনের সময় আমি ভোটারদের কাছে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার সিংহভাগই পূরন করতে সক্ষম হয়েছি।

আবারো নির্বাচনে অংশগ্রহন করবো। আশাকরি ভোটাররা অবশ্যই বিগত দিনে আমার কাজের মূল্যায়ন করে পুণঃরায় নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ করে দিবে। অপর প্রার্থী কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে মানূষের কাছে আছি।

তাই মানুষের সেবা করার জন্য প্রার্থী হতে চাচ্ছি। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের  যুগ্ন আহবায়ক ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরফদার ফখরু বলেন জন সেবাকে ইবাদত মনে করি। জন সেবায় নিয়োজিত আছি,আরো বেশী  সেবায় নিয়োজিত থাকতে প্রার্থী হচ্ছি।

ঠিকাদার হেলাল মিয়া বলেন, আমি অনেক দিন ধরেই মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি তাই ব্যাপক ভাবে মানুষের সেবা করার জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হব। আশাকরি ভোটাররা অমাকে বিজয়ী করবেন।

অপর প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ বলেন, আমি ন্যায় বিচার প্রতিষ্টা ও মানুষের সেবায় নিজেকে সব সময় নিয়োজিত রেখেছি। তাই এই কাজে নিজেকে আরো নিভীড় ভাবে জড়াতে প্রার্থী হব।

জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব বলেন, আমার পরিবার সব সময়ই জনগণের সেবায় নিয়োজিত। তাদের উত্তরসুরি হিসাবে আমি মানুষের সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই। তরুন প্রার্থী মৌলভীবাজার জেলা যুব দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী তৈমুর বলেন, শহরবাসী পরির্বতন চায়।

সন্ত্রাস ,চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি চায়। তাই উন্নত নাগরিক সেবা ও আধুনিক পৌরসভা গঠনে কাজ করার জন্য প্রার্থী হব। আশাকরি জন গণ তাদের সেবা করার সুযোগ  করে দিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *