ভগবানের বিগ্রহ সেবা করবেন কেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ️-

এই জড়জগতে আমরা পতিত জীব হওয়ার দরুন কেউই সরাসরি ভগবানকে দর্শন , স্পর্শনবা তার সেবা করতে পারি না , কিন্তু আমাদের পরিশুদ্ধিতার জন্য ভগবানের সেবা করাওআবশ্যক ।

তাই ভগবান অত্যন্ত করুণা করে তার অভিন্ন বিগ্রহরূপে নিজেকে প্রকাশ করেন ।যেন আমরা তার সেবা করার সৌভাগ্য লাভ করতে পারি ।

দেবদেবীর ক্ষেত্রেও আমরা তা করতেপারি । বিগ্রহসেবা করতে করতে কারাে চেতনা যখন সম্পূর্ণরূপে নির্মল হবে , যখন সতঃস্ফূর্তভাবেভগবানের সেবার প্রতি আগ্রহী  হবেন , তখন তিনি সরাসরি ভগবানের সেবা করার সুযােগলাভ করবেন ।

ভগবানের অনুমােদিত বিগ্রহের সেবা করার ক্ষেত্রে ভক্ত বিগ্রহকে সাক্ষাৎভগবান জ্ঞানেই সেবা করেন । 

বিগ্রহ যদি সাক্ষাৎ ভগবান বা দেবতাই হন , তবে তাদের নিশ্চয়ই কিছু অলৌকিক ক্ষমতাথাকবে, তাই তার কয়েকটি সত্যি লীলা তুলে ধরছি যেমন,️জড় ভরতকে রক্ষাঃশ্রীমদ্ভাগবতের ৫ম স্কন্ধের ৯ম অধ্যায়ে বর্ণিত আছে , একসময় এক দস্যুসর্দার পুত্র কামনায়দেবী ভদ্রকালীর বিগ্রহের সামনে শাস্ত্রবিধি লঙ্ঘন করে কল্পিতবিধি অনুসারে ব্রাহ্মণকুলােদ্ভূতআত্মতত্ত্ববেত্তা জড়ভরতকে নরপশুরূপে বলি দিতে উদ্যত হয়েছিল ।

ভগবানের এমন মহানভক্তের প্রতি এ অন্যায় । আচরণ সহ্য করতে না পেরে দেবী ভদ্রকালী সহসা প্রতিমা বিদীর্ণ করেস্বয়ং প্রকাশিতা হলেন । ভয়ংকর উগ্রমূর্তি ধারণ করে বেদী থেকে নেমে এসে যে খড়গের দ্বারাদস্যুরা জড়ভরতকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল , সেই খড়গ দ্বারাই সেই দস্যু ও তস্করদের মস্তকছেদন করেছিলেন । ️

জগন্নাথদেব ও বন্ধুমহান্তিঃউড়িষ্যার যাজপুরে বন্ধু মহান্তী নামে জগন্নাথের এক পরম ভক্ত ছিলেন , যিনি জগন্নাথদেবকেইতাঁর পরম বন্ধু বলে মনে করতেন । দুই কন্যা ও এক পুত্রসহ অনুগত পত্নী নিয়ে তার সংসারচলত ভিক্ষাবৃত্তি করে ।

একসময় দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে জগন্নাথের ওপর ভরসা করে মহান্তীতাঁর পরিবারসহ পুরী ধামে যান । তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য তারা জগন্নাথ মন্দিরেররান্নাঘরের ড্রেন থেকে ভাতের মাড় সংগ্রহ করে তা খেয়েই নিদ্রা যান ।

রাত্রিতে জগন্নাথবিগ্রহস্বয়ং এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের বেশে তার ভােজনের সােনার থালায় নানাবিধ সুস্বাদু প্রসাদ এনে বন্ধুমহান্তীসহ তার পরিবারকে ভােজন করান , কিন্তু থালাটি রেখেই তিনি অন্তর্ধান হয়ে যান ।

ভােজনের পর বন্ধু মহন্তী ব্রাহ্মণকে দেখতে না পেয়ে থালাটি কাপড়ে মুড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন এই থালা চুরির দায়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে ভীষণ প্রহার করে । সেদিন রাতেজগন্নাথদেব উড়িষ্যার রাজাকে স্বপ্নে এসে কঠোরভাবে ভৎসনা করে বলেন যে , তােমার বাড়িতে অতিথি এলে তুমি কি তাকে না খাইয়ে রাখবে ? তােমার প্রাসাদে এমন কেউ কি আছে যে না খেয়ে ঘুমিয়েছে ? আমার বন্ধু তার পরিবার নিয়ে অনেক দূর থেকে এসেছে ।

তাকে আমি আমার সােনার থালায়খেতে দিয়েছি , তা কি তােমার পিতার সম্পত্তি ? অথচ তােমার লােকজন তাকে কত না প্রহার করেছে । আমি তােমাকে আদেশ করছি , তুমিএক্ষুণি পুরীর জেল থেকে তাদের সসম্মানে নিয়ে এসাে , তাদের চরণ ধৌত করাে , উন্নত বস্ত্র ওআভূষণ প্রদান কর এবং সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীকরূপে মাথায় মুকুট পরিয়ে দাও ।

আজীবনেরজন্য তাদের উন্নত আহার ও বাসস্থানসহ সবধরনের ব্যবস্থা কর । অন্যথায় তােমার সবকিছুধ্বংস করে দেব । ” তখন রাজা ভগবান শ্রীজগন্নাথদেবের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ভগবান জগন্নাথেরকাছে ক্ষমাভিক্ষা চাইলেন । 

সাধক রামপ্রসাদ ও বামাক্ষ্যাপা । দেবী মা কালীর পরম ভক্ত রামপ্রসাদ ভারতবর্ষে অতি পরিচিত নাম । তিনি নিত্য কালীমাতারবিগ্রহের সেবাপূজা করতেন । একদিন রামপ্রসাদ শ্যামাসংগীত গাইতে গাইতে বাড়ির বেড়াবাঁধছিলেন ।

তখন দেবী কালী বিগ্রহ থেকে প্রকাশিত হয়ে একাকী রামপ্রসাদকে বেড়ার কাজেস্বয়ং সহায়তা করেছিলেন । সাধক বামাক্ষ্যাপাও ছিলেন তারামায়ের পরম ভক্ত , যিনি মায়ের বিগ্রহের নিত্য সেবা করতেনএবং তার সাথে কথা বলতেন । 

️শ্রীল মাধবেন্দ্র পুরীর জন্য রেমুণায় গােপীনাথ বিগ্রহ নিজের আঁচলের নিচে ক্ষীর লুকিয়েরেখেছিলেন । 

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাবিলাসকালে তার অন্যতম ভক্ত গৌড়ীদাস পণ্ডিত যে গৌর নিতাইবিগ্রহের সেবা করেছিলেন তা স্বয়ংরূপ পরিগ্রহ করে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন , খাবার গ্রহণ করেছিলেন এবং চলতে শুরু করেছিলেন । 

এছাড়া , বংশীদাস বাবাজি , বৈষ্ণবকবি চণ্ডীদাস , গােবিন্দ দাস , মীরাবাঈ , গােবিন্দ ঘােষ , শ্রীল রূপ গােস্বামী , শ্রীল সনাতন গােস্বামী প্রমুখ ভগবদ্ভক্তগণের জীবনীতে দেখা যায় যে , তাঁদের সাথে তাঁদের ঈষ্টদেবরূপ শ্রীবিগ্রহের কত বিচিত্র লীলা সংঘটিত হতাে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *