ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করতে উজিরপুর বাজার এর সামনে থেকে গরুর মাংসের দোকান সরানোর দাবি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ও পৌরসভার প্রধান বাজারে ( উজিরপুর বাজারে) ঢোকার শুরুতেই গত পাঁচ বছর ধরে চলে আসছে এই গরুর মাংসের দোকান। প্রতিদিন ভোর বেলায় দুটো করে গরু কেটে রাস্তার পাসে ঝুলিয়ে বিক্রি করা হয় গরুর মাংস।

ঠিক এই দোকানের অপজিটেই বর্তমান উজিরপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান মজিদ সিকদার বাচ্চুর বাড়ি। তিনি কোনদিনও এর প্রতিবাদ করেন নি। আসন্ন দূর্গা পুঁজা উপলক্ষে এখানে গরুর মাংসের দোকান বন্ধ রাখার দাবী জানানো হচ্ছে।

উজিরপুর বাজারের মধ্যে আলাদা আলাদা করে গরু, খাসি ও মুরগীর মাংসের দোকান রযেছে। বাজারের মধ্যে গরুর মাংসের দোকান থাকতে আবার বাজারে ঢোকার মুখে গরুর মাংসের দোকান থাকতে হবে কেনো ? উজিরপুর বাজারে প্রতিদিন হিন্দু মুসলিম ও খৃষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন বাজার করতে আসেন। এর বিভিন্ন বর্জ্য মারিয়ে বাজারে ঢুকতে হয়।

এই দোকানের সামনে ও আশপাশেও রয়েছে বেস কয়েকটি হিন্দুদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। সকাল দুপুর পর্যন্ত ওইসব হিন্দু দোকানদারদেরও খুব কষ্ট করে দোকানদারী করতে হয়, কিন্তু তারা কখনো ভয়তে মুখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

খুব ভোরে এই পথেই বহু হিন্দু ছাত্র ছাত্রীদের বিভিন্ন শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পরতে যেতে হয়। অনেক সময় গরুর মাংসের গন্ধে তাদের বমি পর্যন্ত হয়ে যায়, তারপরেও কারো কোনো প্রতিবাদ নেই।

উজিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রন্টু বাইন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সীমা রানী শিল এবং পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারীর বাড়িও বাজারের মধ্যেই। তারা প্রতিদিন অন্তত কমকরে হলেও ১০ বার এই পথে হাটেন।

তাদের বিবেকও কোনদিন ডাকদেয়নি যে এই রাস্তায় সকল ধর্মের মানুষ চলাচল করেন। সে কারনে বাজারে ঢোকার মুখেই একটি গরুর মাংসের দোকান দেয়া সঠিক নয়। উজিরপুর সদর সহ আসপাস এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ করেন এমন অন্তত ৫০ জন হিন্দু নেতা আছেন যারা কোনদিনও এর প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।

যারা নিজের ধর্মের অস্তিত্ত টিকাতে পারে না তারা আবার কিসের নেতা ? এছারাও এখানে খুব প্রভাবশালী শ্রীগুরু সংঘ,, জয়গুরু সংঘ ও ভবতারন সেবা সংঘেরও কমিটি রয়েছে এবং বড় বড় নেতারাও রয়েছেন,, তারাও কোনদিন বিষয়টি কথা বলেন নি।

এ অবস্থায় আসন্ন দূর্গাপুঁজার সময় থেকেই দেশের অসাম্প্রদায়িক ভাবাধারা বাজায় রাখতে অনতি বিলম্বে পাকাপাকি ভাবে উজিরপুর বাজারে ঢোকার মুখে এই গরুর মাংসের দোকান বন্ধ করার জন্য উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি কামনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *