কমলগঞ্জে লাঘাটা নদী খননে বন্যা-জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির আশা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:-

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে কৃষকদের বহুল প্রতীক্ষিত লাঘাটা নদী খননের মাধ্যমে নাব্যতা আনয়নের কাজ চলছে দু’বছর ধরে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদীর খনন কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।প্রত্যাশীতকাজ শুরু হলে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়।কিন্তু কাজে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে জনগনের মাঝে রয়েছে নানান উদ্বেগ।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নদী খনন কাজ শুরু হয়। তবে নদী খননের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সভা, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন।ভূক্তভুগী কৃষকরা জানান, ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙ্গনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল- পতনঊষার, শমসেরনগর, মুন্সীবাজার ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কৃষকরা।

এলাকার কৃষকরা জানান তারা বোরো,আউশ, আমন ও সবজি ক্ষেত হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। তাই পানি নিষ্কাশনের জন্য লাঘাটা নদী খনন ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী।


মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সনে লাঘাটা নদী খননের জন্য সার্ভে কাজ সম্পন্ন হয়। নানা জটিলতার মুখে খনন কাজ কিছুটা বিলম্বে শুরু হয়।কাজটি সম্পাদনের জন্য দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে লাঘাটা নদীর উৎসস্থল পর্যন্ত ২৪ কি.মি. খনন কাজ হাতে নেওয়া হয়।

১১ দশমিক ৮শ মিটার ও ১২ দশমিক৮৩০ মিটার মিলিয়ে ২৪ দশমিক ৬৩০ মিটার খনন কাজ হবে।ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস.এ.এস.আই এন্ড ইশরাত এন্টারপ্রাইজ ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে লাঘাটা নদীর খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শমশেরনগর এলাকায় অপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে।


লাঘাটা নদীকে ঘিরে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, আলীনগর, শমসেরনগর,পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের একাংশের কৃষকরা কৃষি, চাষাবাদ ও মাছ আহরণ করে জিবিকা নির্বাহ করে আসছেন। নদীভাঙ্গন, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ পতনঊষারের কেওলার হাওরের  মাঝ দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদী।

লাঘাটা নদী রাজনগর উপজেলায় মনু নদীতে পতিত হওয়ায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার পানি মনু নদীতে গিয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে লাঘাটা নদী ভরাট, ঝোঁপজঙ্গল, পলিবালি ও নানান কারনে সংকোচন হয়ে খালে পরিণত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন হতে দীর্ঘ সময় লাগে।  জলাবদ্ধতার ফলে ধানী জমি ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারন কৃষকরা।


কমলগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি দুরুদ আলী, সদস্যসচিব তোয়াবুর রহমান তবারক, মৌলভীবাজার কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতা রমজান আলী বলেন, বিগত দিনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও আমাদের পক্ষ থেকে ইউএনও, জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান ও সভা সমাবেশ করেছি। নদী খনন, সংস্কার ও ড্রেজিং না করার কারণে নদী সংকোচন হয়ে পড়েছিল।

ধলাই ও লাঘাটা নদীর প্রশস্ত ও গভীরতা কমে যাওয়া, দু’পাশে ঝোঁপজঙ্গল ও গাছগাছালিতে ভরপুর হয়ে উঠা, বসতি স্থাপণ এবং অসাধু মাছ শিকারী চক্রের স্থানে স্থানে ফেলা বাঁশের খাঁটি ও বাঁধ দেওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।লাঘাটা নদীতে খনন শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির দেখা দিয়েছে।

তবে ঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন না হলে আবারও কৃষকদের ক্ষতি বয়ে আনবে।এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, গত বছর থেকে সরকারি উদ্যোগে নদীর খনন কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষের উপকারে আসবে। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। রাজনগর অংশে একজন ও কমলগঞ্জ অংশে অন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে খনন কাজ হচ্ছে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।


স্হানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ জানান,এটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি কাজ।

এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে লাঘাটা নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।তাই খনন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিজে সরেজমিন পরিদর্শন ও নিয়মিত তদারকি করছি। ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপক উপকৃত হবেন। 


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *