২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে হিন্দু নির্যাতন ব্যাপক হারে বেড়েছে-সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোট

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক:-

৩০ ডিসেম্বর ২০২০ইং রোজ বুধবার সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ২০২০ সালে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মঠ, মন্দির, প্রতিমা ভাংচুর, হিন্দু বাড়ী ঘরে অগ্নি সংযোগ, লুঠ-পাট, খুন, নারী অপহন, দেশ ত্যাগে বাধ্যকরন সহ নানা অত্যাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্ট পেশ করেন।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এর মহাসচিব অ্যাডঃ গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডঃ বিধান বিহারী গোস্বামী, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডঃ দীনবন্ধু রায়, সিনিয়র সহ সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, সহ সভাপতি অ্যাডঃ প্রদীপ সরকার, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডঃ লাকি বাছার, সাংগঠণিক সম্পাদক অ্যাডঃ সূজয় ভট্টাচার্য, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক প্রদীপ চন্দ্র, সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক সরল কুমার রায়, সহ দপ্তর সম্পাদক কল্যাণ মন্ডল, হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক মহাজোটের চয়ন বাড়ৈ, সাগরিকা মন্ডল, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সাজেন কৃষ্ণ বল সাধারন সম্পাদক সজিব কুন্ডু, মৌসুমি রায় প্রমূখ।


লিখিত রিপর্টে উল্লেখ করেন ২০২০ সালের জানুয়ারী থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু ও ব্যেদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর সরকার দলীয় নেতা কর্মী সহ অন্যান্য সংগঠনের নেতা কর্মী সমর্থকদের দ্বারা এবং মদদে হামলা লুঠপাট সহ নানা ঘটনা ঘটেছে।

জানুয়ারী থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত গত ১ বছরে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জানুয়ারী থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত গত ১ বছরে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৪৯ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার হুমকী ২০১ জন, হত্যা চেষ্টা ১৪৬ জন, জখম ও আহত করা হয়েছে ৭০৩৭ জনকে, নিখোঁজ হয়েছে ৬১ জন, চাঁদাবাজী হয়েছে ৪৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, পরিবার ও মন্দির লুঠ হয়েছে ২৪৪ টি। ক্ষতি হয়েছে ১৩২২ কোটি ২১ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকার।

বসতবাড়ী হামলা ভাংচুর ও লুঠপাটের ঘটনা ঘটেছে ৪৫৪টি। অগ্নি সংযোগ ১১৬টি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, ভূমি দখল হয়েছে ১০,২৩৬.৭৩ একর, যার মধ্যে চাকমা,ম্রো এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ৮২০০ একর এবং এবং হিন্দুদের ২২৩৬.৭৩ শতাংশ।

ঘরবাড়ী দখলের ঘটনা ঘটেছে ৭০টি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ২৯টি, মন্দিরের ভূমি দখল ৩৭টি, দখলের তৎপরতা ৩৭৫ একর ২৬ শতাংশ। বসত বাড়ী থেকে উচ্ছেদ ২১২৫ টি পরিবার, উচ্ছেদের চেষ্টা ১৭১৩ টি পরিবার, উচ্ছেদের হুমকী ২০৯৩ পরিবার এবং ৮টি ম্রো আদিবাসী গ্রাম।

দেশত্যাগের বাধ্যকরন ৬২৯ট পরিবার। দেশত্যাগের হুমকীর শিকার ৮৯৩টি পরিবার, নিরাপত্তাহীনতায় ৬৬১৩ টি পরিবার, মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ ১৬৩টি, প্রতীমা ভাংচুর ৩৭০টি, প্রতিমা চুরি ৩৩টি, বাড়ীতে হামলা ভাংচুর অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৫০৫টি। সংঘবদ্ধ হামলা ৫২০টি, ৯৪ জনকে অপহরণ করা হয়েছে, অপহরনের চেষ্টা ২১ জনকে।

৩৭ জনকে ধর্ষন করা হয়েছে, ২৪ জনকে ধর্ষনের চেষ্টা হয়েছে, ১১ জনকে গণ ধর্ষন করা হয়েছে। ধর্ষনের পর হত্যা ৫ জন। ২৬২৩ জনকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। ধর্মান্তরের চেষ্টা ২৯১টি পরিবার। ৪৩ টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এর ঘটনা ঘটেছে এবং সরস্বতী পুজা উপলক্ষে ৭ লাখ হিন্দু শিক্ষার্থীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত।

মিথ্যা মামলায় আসামী, গ্রেফতার বরখাস্ত করা হয়েছে ১৭৭ জনকে, ৪১৫ টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অপবিত্রকরণ ২৩ টি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে বাধা ২৯টি। ধর্মীয় নিষিদ্ধ গরুর মাংস খাইয়ে অপবিত্রকরন ৫০ জনকে। মিথ্যা রাজাকার বানানো ৩ জনকে।


২০২০ সালে ১০৫৫টি আলাদা ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান মন্দির ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে; যার সংখ্যা কমপক্ষে ৪০,৭০৩টি এবং ১০,২৩৬ একর ৭৩ শতাংশ ভূমি হতে বেদখল করা হয়েছে। সাঁওতাল আদিবাসীদের গত তিন প্রজন্মে ৩ লক্ষ বিঘা জমি জোড় পূর্বক দখল করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকা। অতি সম্প্রতি সাঁওতাল আদিবাসীদের ৬২২ একর ভূমি দখল করা হয়েছে।

পরিসখ্যান বলে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত হিন্দু নির্যাতন বাড়ছে। গত ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে হিন্দু নির্যাতন বেড়েছে।

আবার ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে হিন্দু নির্যাতন বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

২০১৮ সালে হত্যা হয়েছিল ৯৬ জন, ২০১৯ সালে ১০৮ জন, ২০২০ সালে হত্যা হয়েছে ১৪৯ জন। ২০১৮ সালে আহত হয়েছিল ৩৪৭, ২০১৯ সালে ৪৮৪, এ বছরে আহত করা হয়েছে ৭০৩৬ জনকে।

২০১৮ সালে বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেদ হয়েছিল ২১৭টি পরিবার ২০১৯ সালে ৪৩৪টি পরিবার, ২০২০ সালে ২১২৫টি পরিবার। ২০১৮ সালে দেশ ত্যাগের হুমকী ছিল ২২৩ টি, ২০১৯ সালে ৬৪১টি পরিবার, এ বছরে ৮৯৩টি পরিবার।

২০১৮ সালে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিলো ৬৫টি পরিবারকে, ২০১৯ সালে ৩৭৮টি পরিবারকে, এ বছর দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে ৬২৯টি পরিবারকে। ২০১৮ সালে নিরাপত্তাহীনতায় ছিল ১৫১০ পরিবার, ২০১৯ সালে ২২৬১ পরিবার, এবছর ৬৬১৩টি পরিবার।

২০১৮ সালে মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছিল ১৩১টি, ২০১৯ সালে ১৫৩টি, এ বছর ১৬৩টি। সর্ব ক্ষেত্রেই নির্যাতনের পরিমান বেড়েছে।
২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ব্যাপকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন হয়েছে। কিন্তু ২০০১ সালের ঘটনা সহ কোন অপরাধের বিচার বা শাস্তি হয় নাই।

এই বিচারহীনতার কারনেই অপরাধীরা বার বার হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন হচ্ছে। প্রতিনিয়ত হিন্দু ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলেও আজ পর্যন্ত হিন্দু ধর্ম কটুক্তির অভিযোগে কাউকে গ্রেফতার করা হয় নাই। উপরন্তু ফেসবুক হ্যাক করে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে শতাধিক হিন্দু যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শত শত ঘরবাড়ী পুড়িয়ে, মঠ মন্দির ধ্বংস করে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রতিনিয়ত হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। সরকার সকল শ্রেনীর পাঠ্যপুস্তক ইসলামীকরণ করেছে। হিন্দু ছাত্র ছাত্রীদেরকে বাধ্যতমূলক ইসলাম ধর্ম পাঠ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন যদিও সরকার সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে অতীতের তুলনায় যথেষ্ঠ তৎপর। কিন্তু তারপরও সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না।

সেকারনে এদেশের সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতা ও নির্যাতন নিরোধ কল্পে জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পূণঃ প্রতিষ্ঠা ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং হিন্দু সম্প্রদায় থেকে একজনকে পূর্ণ মন্ত্রী নিয়োগ এর দাবী করেন।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *