প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার পরও বিদ্যুৎ এর সুবিধা বঞ্চিত কমলগঞ্জের কালেঞ্জী পুঞ্জি গ্রাম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:-

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণার পরও বিদ্যুৎহীন কালেঞ্জী গ্রাম।

গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারী গণ ভবন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেন।

তবে বন বিভাগের আপত্তির কারণে এখনও শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসেনি কমলগঞ্জের  সীমান্তবর্তী আদমপুর বনবিট এলাকার কালেঞ্জী খাসিয়াপুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রাম।গ্রামটি বিদ্যুতায়িত না হওয়ায় প্রায় দেড়শত পরিবার বিদ্যুতের সাহায্যে প্রাপ্ত আধুনিক  সুবিধা হতে বঞ্চিত।

খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলেন, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণা করেছে। অথচ এই দু’টি গ্রাম এখনও শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসেনি।

কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ টি পরিবারের সদস্যরা দৈনন্দিন নানা সমস্যায় জর্জরিত।কিন্তু বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দু’টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্ভব হচ্ছে না।পুঞ্জির নারী পুরুষ সদস্যরা টিলার নিচের কূপ হতে পানি সংগ্রহ করে টিলার উপরে তুলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ করে আসছেন।

বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসলে বৈদ্যুতিক পাম্প বসিয়ে নিচ থেকে টিলার উপরে ঘরে ঘরে পানি তোলা যেতো। খাসিয়া সদস্যদের আয়ের প্রধান উৎস পাহাড়ি টিলায় জুমের পান চাষ।তাদের খাসিয়া পান বৃহত্তর সিলেটের ভাটি অঞ্চল তথা যুক্তরাজ্যে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৫শ’ ফুট উপরে পাহাড়ি টিলার স্তরে স্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসতঘর।

খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ পরিবারের প্রায় ছয়শত লোকের বাস। তাদের আয়ের প্রধান উৎস জুমের খাসিয়া পান ও লেবুর চাষ।পুঞ্জির পার্শ্ববর্তী কালেঞ্জি গ্রামেরও ৫০টি পরিবারে প্রায় পাঁচশতাধিক লোকের বসবাস আছে।তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগেও বিদ্যুতর ছোঁয়া পৌঁছায়নি এই গ্রামে।

যোগাযোগ ব্যাবস্থার ও রয়েছে করুন দশা।খারাপ যাতায়াত ব্যাবস্থার কারণে কালেঞ্জি পুঞ্জি র খাসিয়া সম্প্রদায় ও গ্রামের লোকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আদমপুর বাজার থেকে ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী সংরক্ষিত বনের মাঝে কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও পুঞ্জি ঘেষা কালেঞ্জি গ্রাম।

পুঞ্জি প্রধান হেডম্যান রিটেঙেন ঘেরিয়েম বলেন, আমাদের পুঞ্জির স্কুল-কলেজ পড়ুয়া প্রায় ২’শ ছাত্রছাত্রী বেশিরভাগ সময়ে পায়ে হেটে ১০ কিলোমিটার পার হয়ে আদমপুরে যেতে হয়। সেখান থেকে গাড়িতে করে স্কুল কলেজে যেতে হয়।

যাতায়াতের দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে খাসিয়া পরিবারগুলো দৈনন্দিনের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী আদমপুর বাজারে যেতে হয়।তিনি আরও বলেন, একই উপজেলার সংরক্ষিত বনের পাত্রখোলা,মাগুরছড়া ও লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদ কমলগঞ্জের পাত্রখোলায় বনের মধ্যে খাসিয়া পুঞ্জি ও গারো টিলায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে ১৫০টি পরিবারকে বিদ্যুতায়নের আওতায় এনেছেন। অথচ বন বিভাগ অযৌক্তিভাবে আপত্তি দিয়ে কালেঞ্জী পুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন,পল্লী  বিদ্যুৎ সমিতি কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামে বিদ্যুতায়নের জন্য খুটি এনে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেও বন বিভাগের আপত্তির কারণে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ করতে পারেনি কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রাম।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম মীর গোলাম ফারুক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, তিনি কমলগঞ্জে নতুন যোগদান করেছেন। তবে অফিস রেকর্ড দেখে জেনেছেন, কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছিল।

ঠিকাদারের লোকজনও খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুটিও এনে রাখে। শুধুমাত্র বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দুটি গ্রামকে এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা যায়নি।কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন তাদের আপত্তির কথা স্বীকার করে বলেন, সংরক্ষিত বনের ভিতর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনে নিষেধ আছে।

শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করণে কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামের কথা ভেবে বনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে কিভাবে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন করা যায় সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে জরিপ কাজ করা হয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামের বিদ্যুতায়নের বিষয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *