কমলগঞ্জের মাধবপুর লেকে বখাটেদের হাতে পর্যটক লাঞ্চিত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অঞ্জন চৌধুরী,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :-

অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের  লীলা ভুমি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার দৃষ্টিনন্দন  মাধবপুর লেকে প্রতিদিন দেশী-বিদেশী বিভিন্ন  পরিমাণে পর্যটক বেড়াতে আসেন।

এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে পর্যটক সহায়ক পুলিশ । এর মাঝেও মাধবপুর চা বাগান লেকে দুটি মোটরসাইকেলযোগে অতর্কিতে এসে ৬ বখাটে পেটাল কয়েকজন নারী-পুরুষ পর্যটককে। পর্যটকদের পিটিয়ে আবার নিরাপদে চলে গেল বখাটেরা।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় মাধবপুর চা বাগান লেক সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে পর্যটক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে নির্যাতিত পর্যটকদের খোঁজে পায়নি। সাথে সাথে হামলাকারী বখাটেদেরও পায়নি। এমনকি তাদের নাম পরিচয়ও জানতে পারেনি।

মাধবপুর চা বাগানের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জেনে, রোববার বেলা আড়াইটায় সরেজমিন মাধবপুর চা বাগান ও লেক এলাকা ঘুরে এ ঘটনার সত্যতা জানা যায়।
মাধবপুর চা বাগান লেকে প্রবেশ পথের গেইটম্যান দাদু কর বলেন, শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সোয়া ৩টার দিকে একটি নোহা মাইক্রোবাস যোগে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৮ জন পর্যটক এসেছিলেন।

তারা লেকে যাবার আগে একটি ধানি জমিতে বসে মধ্যাহ্নভোজ সারছিলেন। এমন সময় ২টি মোটরসাইকেল যোগে ৬ বখাটে অতর্কিতে এসে এলোপাতাড়িভাবে পর্যটকদের পেটালো।

তিনি বিষয়টি পর্যটক সহায়ক পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাজমুল ইসলামকে অবহিত করলে তিনি মূল লেক এলাকা থেকে ঘটনাস্থলে আসার আগেই হামলাকারী বখাটেরা চলে গেল।

দাদু কর আরও বলেন, হামলায় আহত পর্যটকদের কথা বার্তায় বুঝতে পেরেছেন তারা হবিগঞ্জ থেকে এখানে এসেছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধবপুর ইউনিয়নের দুইজন জনপ্রতিনিধি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার বিকেলে মাধবপুর লেকে যারা হামলা চালিয়েছিল তাদের নেতৃত্বে ছিল সালমান আহমেদ (২৩), সজু আহমেদ (২১) ও মিজান (২২)। তাদের বাড়ি মাধবপুর ইউনিয়নে। তারা প্রায়ই এখানে আসা পর্যটকদের উত্যক্ত করা থেকে শুরু করে মারধরও করে থাকে।

মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হামলায় আহত নারী-পুরুষ পর্যটকরা ফেরার পথে তাকে পেয়ে মৌখিকভাবে ঘটনাটি অবহিত করে গেছে। তারা সবাই হবিগঞ্জ অঞ্চলের। মাঝে মাঝে মাধবপুর লেকে এ ধরণের ঘটনা ঘটার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন তবে অভিযোগ সম্পর্কে সালমান আহমেদ ও সজু আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, তারা এ ঘটনার সাথে যুক্ত নন।

শনিবার বিকালে সড়ক দূর্ঘটনায় তাদের এক ভাতিজা মারা যায়। সে কাজে তারা ব্যস্ত ছিলেন। অহেতুক কেউ তাদের নাম দিয়েছে বলে তারা মনে করেন। তবে মাধবপুর লেকের ঘটনার সাথে সন্ধ্যার আগের সড়ক দুর্ঘটনার মাঝে ২ ঘন্টার ব্যবধান ছিল বলে স্থানীয়রা বলেন, তারাই এ ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল।

পর্যটক সহায়ক পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, চা বাগান গেইটম্যান দাদু করের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলেও হামলাকারী ও হামলার শিকার পর্যটকদের কাউকেই পাননি।

এমনকি হামলাকারীদের নাম পরিচয়ও জানতে পারেননি। এ ঘটনায় কেউ লিখিত কোন অভিযোগও করেনি।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন,পর্যটক সহায়ক পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাজমুল ইসলামের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে লিখিত কোন অভিযোগ কেউ করেনি। তার পরও বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *