আজ ধামরাইয়ের গণহত্যা দিবস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রনজিত কুমার পাল (বাবু) ঢাকা জেলা প্রতিনিধি:-

আজকের এইদিনে ১৯৭১ সালের ৮ই মে সকাল এগারটার দিকে ধামরাই উত্তরপাতার নেপাল চন্দ্র পাল সহ ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার আরো ৮০-৯০ জনকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে প্রথমে ধামরাই থানায় নিয়ে থানা চত্ত্বরে আটকে রাখে পরবর্তীতে দুপুরের দিকে আটককৃতদের অধিকাংশ লোককে ছেড়ে দিয়ে ১৯ জন লোককে নিয়ে ধামরাইয়ের কালামপুর বাজারের বংশী নদীর পাড়ে নিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যগন এতে এ’সময় দীনেশ রায মৌলিক (সাং কায়েতপাড়া),

হাবলু রায় মৌলিক (সাং কায়েতপাড়া),বুদ্দু সূত্রধর (সাং রথখোলা),নালু কর্মকার (সাং রথখোলা), পাগল সূত্রধর (সাং বকুলতলা,কায়েতপাড়া),রাধেশ্যাম বণিক (সাং রথখোলা), চিনু বণিক (সাং বড় বাজার), ভোলানাথ বণিক (সাং বড় বাজার), গনেশ পাল (সাং পর্বতবাড়ী), মাধব পাল (সাং কায়েতপাড়া),

বিশ্বনাথ পাল বিশা (সাং কায়েতপাড়া) সহ মোট ১৪ জন লোক প্রাণ হারান ভাগ্যক্রমে সাতটি গুলি পায়ে লাগার পরও বেঁচে যান নেপাল চন্দ্র পাল (সাং উত্তরপাতা) ও বাবু লাল পাল (কায়েতপাড়া),জুরান রায় মৌলিক (কায়েতপাড়া), গৌর রাজবংশী (সাং কায়েতপাড়াস্হ মাঝিপাড়া) মোট ৫ জন লোক বেঁচে যান।

এ’বিষয়ে ধামরাই পৌরসভার উত্তরপাতা মহল্লার প্রয়াত মহাদেব পালের মেজ ছেলে নেপাল চন্দ্র পাল বলেন ১৯৭১ সালের ৮ই মে সকাল ১১টার দিকে আমার উত্তরপাতাস্হ নিজ বাড়ি থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যগন আমাকে সহ আরো ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৯০ জনকে ধরে নিয়ে প্রথমে ধামরাই থানা চত্ত্বরে নিয়ে আটকে রাখে পরবর্তীতে ওইদিনই দুপুরে আটককৃত ৯০ জনের মধ্যে অধিকাংশ লোককে ছেড়ে দিয়ে আমাকে সহ ১৯জনকে ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকায় বংশী নদীর পাড়ে নিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যগন এতে এ’সময় ১৪ জন লোক প্রাণ হারান। ভাগ্যক্রমে সাতটি গুলি পায়ে লাগার পরও আজও বেঁচে আছি আমি।

কালামপুর বধ্য ভূমিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যদের কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ৫০ বছর যাবৎ অর্থকষ্টে অভাবের সংসারে কোন রকম পরিবারের সবাইকে নিয়ে দুঃখ -কষ্টে বেঁচে আছি। এ’পর্যন্ত সরকারি কোন সহযোগিতা তো দূরের কথা এমনকি স্বাধীনকার ৫০ বছরে কেউ আমার কোন প্রকার খোঁজ খবরও নেয়নি।

মাজে সাজে সাংবাদিকরা ছবি তুলে নিয়ে গেছে এ’পর্যন্ত জানালেন ধামরাই পৌরসভার উত্তরপাতা মহল্লার বাসিন্দা নেপাল চন্দ্র পাল (৭৭)। তিনি এ’সময় আরো বলেন মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতর জন্য ঢাকার জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন জায়গায় করেছি আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি।

আমাদের এলাকায় অনেকে মুক্তিযুদ্ধে না গিয়েও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি ভাতা নিচ্ছেন। কিন্তু আমি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়েও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও সরকারি কোন ভাতা পাইনি।

এমনকি শুনেছি ৫/৬বছর আগে ধামরাই উপজেলা প্রশাসন থেকে কালামপুরের সেই বধ্য ভূমিটি চিন্হিত করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও ১৯৭১ সালের ৮ই মে তারিখে পাকিস্হানি হানাদার কর্তৃক ব্রাশ ফায়ারে নিহত ও গুলিবিদ্ধ আমি সহ আরো কয়েকজন আহতদের নামও স্মৃতি ফলকে লিখা হয়নি। তাই আমি প্রশাসনের কাছে আপনাদের(সাংবাদিকদের) মাধ্যমে আমার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি সহ বধ্য ভূমির স্মৃতিস্তম্ভ স্মৃতি ফলকে সবাই নাম লিখার দাবি জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *